কুরআনের 74 নম্বর সুরা

সুরা Al-Muddaththir

মাক্কী 56টি আয়াত পারা 29
Al-Muddaththir

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

يَٰٓأَيُّهَا ٱلْمُدَّثِّرُ ﴿١﴾

হে চাদরাবৃত!

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

قُمْ فَأَنذِرْ ﴿٢﴾

উঠুন, সতর্ক করুন,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ ﴿٣﴾

আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষনা করুন,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ ﴿٤﴾

আপন পোশাক পবিত্র করুন

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَٱلرُّجْزَ فَٱهْجُرْ ﴿٥﴾

এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَلَا تَمْنُن تَسْتَكْثِرُ ﴿٦﴾

অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দিবেন না।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَلِرَبِّكَ فَٱصْبِرْ ﴿٧﴾

এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَإِذَا نُقِرَ فِى ٱلنَّاقُورِ ﴿٨﴾

যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে;

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَذَٰلِكَ يَوْمَئِذٍۢ يَوْمٌ عَسِيرٌ ﴿٩﴾

সেদিন হবে কঠিন দিন,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

عَلَى ٱلْكَٰفِرِينَ غَيْرُ يَسِيرٍۢ ﴿١٠﴾

কাফেরদের জন্যে এটা সহজ নয়।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

ذَرْنِى وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًۭا ﴿١١﴾

যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَجَعَلْتُ لَهُۥ مَالًۭا مَّمْدُودًۭا ﴿١٢﴾

আমি তাকে বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছি।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَبَنِينَ شُهُودًۭا ﴿١٣﴾

এবং সদা সংগী পুত্রবর্গ দিয়েছি,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَمَهَّدتُّ لَهُۥ تَمْهِيدًۭا ﴿١٤﴾

এবং তাকে খুব সচ্ছলতা দিয়েছি।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

ثُمَّ يَطْمَعُ أَنْ أَزِيدَ ﴿١٥﴾

এরপরও সে আশা করে যে, আমি তাকে আরও বেশী দেই।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

كَلَّآ ۖ إِنَّهُۥ كَانَ لِءَايَٰتِنَا عَنِيدًۭا ﴿١٦﴾

কখনই নয়! সে আমার নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধাচরণকারী।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

سَأُرْهِقُهُۥ صَعُودًا ﴿١٧﴾

আমি সত্ত্বরই তাকে শাস্তির পাহাড়ে আরোহণ করাব।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

إِنَّهُۥ فَكَّرَ وَقَدَّرَ ﴿١٨﴾

সে চিন্তা করেছে এবং মনঃস্থির করেছে,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَقُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ﴿١٩﴾

ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

ثُمَّ قُتِلَ كَيْفَ قَدَّرَ ﴿٢٠﴾

আবার ধ্বংস হোক সে, কিরূপে সে মনঃস্থির করেছে!

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

ثُمَّ نَظَرَ ﴿٢١﴾

সে আবার দৃষ্টিপাত করেছে,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

ثُمَّ عَبَسَ وَبَسَرَ ﴿٢٢﴾

অতঃপর সে ভ্রূকুঞ্চিত করেছে ও মুখ বিকৃত করেছে,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

ثُمَّ أَدْبَرَ وَٱسْتَكْبَرَ ﴿٢٣﴾

অতঃপর পৃষ্ঠপ্রদশন করেছে ও অহংকার করেছে।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَقَالَ إِنْ هَٰذَآ إِلَّا سِحْرٌۭ يُؤْثَرُ ﴿٢٤﴾

এরপর বলেছেঃ এতো লোক পরস্পরায় প্রাপ্ত জাদু বৈ নয়,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

إِنْ هَٰذَآ إِلَّا قَوْلُ ٱلْبَشَرِ ﴿٢٥﴾

এতো মানুষের উক্তি বৈ নয়।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

سَأُصْلِيهِ سَقَرَ ﴿٢٦﴾

আমি তাকে দাখিল করব অগ্নিতে।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا سَقَرُ ﴿٢٧﴾

আপনি কি বুঝলেন অগ্নি কি?

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

لَا تُبْقِى وَلَا تَذَرُ ﴿٢٨﴾

এটা অক্ষত রাখবে না এবং ছাড়বেও না।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

لَوَّاحَةٌۭ لِّلْبَشَرِ ﴿٢٩﴾

মানুষকে দগ্ধ করবে।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

عَلَيْهَا تِسْعَةَ عَشَرَ ﴿٣٠﴾

এর উপর নিয়োজিত আছে উনিশ (ফেরেশতা)।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَمَا جَعَلْنَآ أَصْحَٰبَ ٱلنَّارِ إِلَّا مَلَٰٓئِكَةًۭ ۙ وَمَا جَعَلْنَا عِدَّتَهُمْ إِلَّا فِتْنَةًۭ لِّلَّذِينَ كَفَرُوا۟ لِيَسْتَيْقِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَيَزْدَادَ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ إِيمَٰنًۭا ۙ وَلَا يَرْتَابَ ٱلَّذِينَ أُوتُوا۟ ٱلْكِتَٰبَ وَٱلْمُؤْمِنُونَ ۙ وَلِيَقُولَ ٱلَّذِينَ فِى قُلُوبِهِم مَّرَضٌۭ وَٱلْكَٰفِرُونَ مَاذَآ أَرَادَ ٱللَّهُ بِهَٰذَا مَثَلًۭا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ ٱللَّهُ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِى مَن يَشَآءُ ۚ وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ ۚ وَمَا هِىَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْبَشَرِ ﴿٣١﴾

আমি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতাই রেখেছি। আমি কাফেরদেরকে পরীক্ষা করার জন্যেই তার এই সংখ্যা করেছি-যাতে কিতাবীরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়, মুমিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং কিতাবীরা ও মুমিনগণ সন্দেহ পোষণ না করে এবং যাতে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা এবং কাফেররা বলে যে, আল্লাহ এর দ্বারা কি বোঝাতে চেয়েছেন। এমনিভাবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান। আপনার পালনকর্তার বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই জানেন এটা তো মানুষের জন্যে উপদেশ বৈ নয়।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

كَلَّا وَٱلْقَمَرِ ﴿٣٢﴾

কখনই নয়। চন্দ্রের শপথ,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَٱلَّيْلِ إِذْ أَدْبَرَ ﴿٣٣﴾

শপথ রাত্রির যখন তার অবসান হয়,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَٱلصُّبْحِ إِذَآ أَسْفَرَ ﴿٣٤﴾

শপথ প্রভাতকালের যখন তা আলোকোদ্ভাসিত হয়,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

إِنَّهَا لَإِحْدَى ٱلْكُبَرِ ﴿٣٥﴾

নিশ্চয় জাহান্নাম গুরুতর বিপদসমূহের অন্যতম,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

نَذِيرًۭا لِّلْبَشَرِ ﴿٣٦﴾

মানুষের জন্যে সতর্ককারী।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

لِمَن شَآءَ مِنكُمْ أَن يَتَقَدَّمَ أَوْ يَتَأَخَّرَ ﴿٣٧﴾

তোমাদের মধ্যে যে সামনে অগ্রসর হয় অথবা পশ্চাতে থাকে।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

كُلُّ نَفْسٍۭ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ ﴿٣٨﴾

প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী;

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

إِلَّآ أَصْحَٰبَ ٱلْيَمِينِ ﴿٣٩﴾

কিন্তু ডানদিকস্থরা,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فِى جَنَّٰتٍۢ يَتَسَآءَلُونَ ﴿٤٠﴾

তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

عَنِ ٱلْمُجْرِمِينَ ﴿٤١﴾

অপরাধীদের সম্পর্কে

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

مَا سَلَكَكُمْ فِى سَقَرَ ﴿٤٢﴾

বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে?

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

قَالُوا۟ لَمْ نَكُ مِنَ ٱلْمُصَلِّينَ ﴿٤٣﴾

তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ ٱلْمِسْكِينَ ﴿٤٤﴾

অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না,

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ ٱلْخَآئِضِينَ ﴿٤٥﴾

আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ ٱلدِّينِ ﴿٤٦﴾

এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

حَتَّىٰٓ أَتَىٰنَا ٱلْيَقِينُ ﴿٤٧﴾

আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَمَا تَنفَعُهُمْ شَفَٰعَةُ ٱلشَّٰفِعِينَ ﴿٤٨﴾

অতএব, সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোন উপকারে আসবে না।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَمَا لَهُمْ عَنِ ٱلتَّذْكِرَةِ مُعْرِضِينَ ﴿٤٩﴾

তাদের কি হল যে, তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়?

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

كَأَنَّهُمْ حُمُرٌۭ مُّسْتَنفِرَةٌۭ ﴿٥٠﴾

যেন তারা ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত গর্দভ।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَرَّتْ مِن قَسْوَرَةٍۭ ﴿٥١﴾

হট্টগোলের কারণে পলায়নপর।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

بَلْ يُرِيدُ كُلُّ ٱمْرِئٍۢ مِّنْهُمْ أَن يُؤْتَىٰ صُحُفًۭا مُّنَشَّرَةًۭ ﴿٥٢﴾

বরং তাদের প্রত্যেকেই চায় তাদের প্রত্যেককে একটি উম্মুক্ত গ্রন্থ দেয়া হোক।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

كَلَّا ۖ بَل لَّا يَخَافُونَ ٱلْءَاخِرَةَ ﴿٥٣﴾

কখনও না, বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

كَلَّآ إِنَّهُۥ تَذْكِرَةٌۭ ﴿٥٤﴾

কখনও না, এটা তো উপদেশ মাত্র।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

فَمَن شَآءَ ذَكَرَهُۥ ﴿٥٥﴾

অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّآ أَن يَشَآءَ ٱللَّهُ ۚ هُوَ أَهْلُ ٱلتَّقْوَىٰ وَأَهْلُ ٱلْمَغْفِرَةِ ﴿٥٦﴾

তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি আল্লাহ চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।

তাফসির আল-মুয়াসসার (আরবি)

Al-Muddaththir 56টির মধ্যে আয়াত 1

আরবি পাঠ: উসমানি লিপি। অনুবাদ: Muhiuddin Khan। অডিও: everyayah.com।

সুরা Al-Muddaththir সম্পর্কে

সুরা Al-Muddaththir (المدثر) কুরআনের 74 নম্বর সুরা। এতে 56টি আয়াত আছে এবং এটি পারা 29-এ রয়েছে। এটি মাক্কী সুরা হিসেবে গণ্য, অর্থাৎ নবী ﷺ-এর মদিনায় হিজরতের আগে মূলত নাজিল হয়েছিল।

এর নাম المدثر, আরবিতে সুরাটি এ নামেই পরিচিত।

সুরা Al-Muddaththir সম্পর্কে প্রশ্ন

সুরা Al-Muddaththir-এ কতটি আয়াত আছে?

সুরা Al-Muddaththir-এ 56টি আয়াত আছে।

সুরা Al-Muddaththir মাক্কী না মাদানী?

শ্রেণিবিভাগ: মাক্কী।

সুরা Al-Muddaththir কোন পারায়?

সুরা Al-Muddaththir পারা 29-এ।

সুরা Al-Muddaththir কোথায় শুনতে পারি?

আয়াত ধরে ধরে শুনতে এই পৃষ্ঠায় প্লে চাপুন, তিলাওয়াত করেছেন আবদুর রহমান আস-সুদাইস, মিশারি আলাফাসি, মাহমুদ খলিল আল-হুসারি, আবদুল বাসিত আবদুস সামাদ, মাহের আল-মুয়াইকিলি, সাদ আল-গামিদি, আহমাদ আল-আজমি, আবু বকর আশ-শাতরি, হানি আর-রিফাঈ, মুহাম্মাদ সিদ্দিক আল-মিনশাবি, আলি আল-হুযাইফি, মুহাম্মাদ আইয়ুব, আবদুল্লাহ বাসফার, ইয়াসির আদ-দোসারি, নাসের আল-কাতামি, সালাহ আল-বুদাইর, সউদ আশ-শুরাইম, আবদুল্লাহ আওয়াদ আল-জুহানি, মুহাম্মাদ জিবরীল।

This page is translated with machine assistance and may contain mistakes. The English and Arabic versions are our reference. About our sources