নামাজ শুরুর দোয়া
((اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللَّهُمَّ نَقِّنِي مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللَّهُمَّ اغْسِلْني مِنْ خَطَايَايَ، بِالثَّلْجِ وَالْماءِ وَالْبَرَدِ)).
(হে আল্লাহ! আমার ও আমার গুনাহসমূহের মাঝে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করুন, যেমন দূরত্ব আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ বরফ, পানি ও শিলা দ্বারা ধুয়ে দিন।)
((سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ)).
(হে আল্লাহ! আপনি কত পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উচ্চ এবং আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই।)
((وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفَاً وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلاَتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لاَ شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ. اللَّهُمَّ أَنْتَ المَلِكُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، أَنْتَ رَبِّي وَأَنَا عَبْدُكَ، ظَلَمْتُ نَفْسِي وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي ذُنُوبي جَمِيعَاً إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ. وَاهْدِنِي لِأَحْسَنِ الأَخْلاقِ لاَ يَهْدِي لِأَحْسَنِها إِلاَّ أَنْتَ، وَاصْرِفْ عَنِّي سَيِّئَهَا، لاَ يَصْرِفُ عَنِّي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ، لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ، وَالخَيْرُ كُلُّهُ بِيَـــــــدَيْكَ، وَالشَّـــــرُّ لَيْسَ إِلَيْــــــكَ، أَنَا بِكَ وَإِلَيْكَ، تَبارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتوبُ إِلَيْكَ)).
(আমি একনিষ্ঠভাবে আমার মুখ ফিরিয়ে নিলাম তাঁর দিকে, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ সবই সমগ্র জগতের রব আল্লাহর জন্য, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমাকে এরই আদেশ দেওয়া হয়েছে এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। হে আল্লাহ! আপনিই অধিপতি, আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। আপনি আমার রব এবং আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের উপর জুলুম করেছি এবং আমার গুনাহ স্বীকার করছি; অতএব আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই। আমাকে সর্বোত্তম চরিত্রের পথ দেখান, কারণ আপনি ছাড়া কেউ তার পথ দেখাতে পারে না, এবং আমাকে নিকৃষ্টতম চরিত্র থেকে দূরে রাখুন, কারণ আপনি ছাড়া কেউ তা থেকে দূরে রাখতে পারে না। আমি হাজির, আপনার ডাকে সাড়া দিতে প্রস্তুত। সকল কল্যাণ আপনারই হাতে এবং অকল্যাণ আপনার দিকে আরোপিত নয়। আমি আপনারই ইচ্ছায় আছি এবং আপনারই কাছে ফিরে যাব। আপনি বরকতময় ও সুমহান, আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং আপনার কাছে তাওবা করছি।)(আল্লাহ এমন নিছক অকল্যাণ সৃষ্টি করেন না, যাতে কোনো কল্যাণ, উপকার, হিকমত বা রহমত নেই, এবং তিনি গুনাহ ছাড়া কাউকে শাস্তিও দেন না। কোনো জিনিস একদিক থেকে দেখলে সৃষ্টির বিচারে ভালো হতে পারে, আবার অন্য দিক থেকে দেখলে মন্দ হতে পারে। আল্লাহ শয়তানকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন; তাই কেউ শয়তানকে ঘৃণা করে, তার ও তার পথের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং তার ও তার অনুসারীদের শত্রু হিসেবে গণ্য করে, আর অন্যরা শয়তানের সাথে মিত্রতা করে ও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে। সুতরাং অকল্যাণ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর ইচ্ছা ও হিকমতে বিদ্যমান, তাঁর কাজে বা সৃষ্টি করার কর্মে নয়।)
((اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرَائِيلَ، وَمِيْكَائِيلَ، وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، عَالِمَ الغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ. اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقيمٍ)).
(হে আল্লাহ! জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীল (মহান ফেরেশতাগণ)-এর রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী! আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে তাদের মতভেদের বিষয়ে ফয়সালাকারী। যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছে, সে বিষয়ে আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সত্যের পথ দেখান, কারণ নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।)
((اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرَاً، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيراً، اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيراً، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثيراً، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثيراً، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثيراً، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً)) ثَلاثاً ((أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ: مِنْ نَفْخِهِ، وَنَفْثِهِ، وَهَمْزِهِ)).
(আল্লাহ সর্বমহান, আল্লাহ সর্বমহান, আল্লাহ সর্বমহান; আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা, আল্লাহর জন্য অনেক প্রশংসা; এবং আমি সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।)(আমি শয়তান থেকে, তার অহংকার, তার কবিতা ও তার পাগলামি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।)
((اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ، أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيِّمُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، [وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَواتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ] [وَلَكَ الْحَمْدُ لَكَ مُلْكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ] [وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ] [وَلَكَ الْحَمْدُ] [أَنْتَ الْحَقُّ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ، وَقَوْلُكَ الْحَقُّ، وَلِقاؤُكَ الْحَقُّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم حَقٌّ، وَالسّاعَةُ حَقٌّ] [اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ، وَبِكَ خاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حاكَمْتُ. فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ] [وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي] [أَنْتَ المُقَدِّمُ، وَأَنْتَ المُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ] [أَنْتَ إِلَهِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ] [وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ])).
(হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমান ও যমীনের এবং তাদের মধ্যে যা আছে সবকিছুর নূর। সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমান ও যমীনের এবং তাদের মধ্যে যা আছে সবকিছুর ধারক। সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমান ও যমীনের এবং তাদের মধ্যে যা আছে সবকিছুর রব। সমস্ত প্রশংসা আপনারই এবং আসমান ও যমীনের এবং তাদের মধ্যে যা আছে সবকিছুর রাজত্বও আপনারই। সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি আসমান ও যমীনের অধিপতি এবং সমস্ত প্রশংসা আপনারই। আপনিই সত্য, আপনার প্রতিশ্রুতি সত্য, আপনার বাণী সত্য, যেদিন আমরা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করব সেই দিন সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য, মুহাম্মাদ ﷺ সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার উপর ভরসা করেছি, আপনার প্রতি ঈমান এনেছি, আপনার দিকে ফিরে এসেছি (তাওবা করেছি), আপনারই সাহায্যে (শত্রুদের সাথে) বিতর্ক করেছি এবং আপনার কাছেই ফয়সালা চেয়েছি। অতএব আমার অতীতের গুনাহ এবং ভবিষ্যতের গুনাহ, আমি যা গোপন করেছি এবং যা প্রকাশ করেছি, সব ক্ষমা করুন। আপনিই আল-মুকাদ্দিম (অগ্রবর্তীকারী) এবং আল-মুআখখির (পশ্চাদবর্তীকারী)। আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই, আপনি আমার ইলাহ, আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই।)(আল-মুকাদ্দিম ও আল-মুআখখিরের অর্থ: আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এগিয়ে দেন ও মর্যাদা দেন, এবং নিজ হিকমত অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা পিছিয়ে রাখেন। যেমন: মানুষকে অন্যান্য সৃষ্টির উপর মর্যাদা দেওয়া, নবীগণকে অন্যান্য মানুষের উপর মর্যাদা দেওয়া, মুহাম্মাদ ﷺ-কে সকল নবী ও রাসূলের উপর মর্যাদা দেওয়া ইত্যাদি।)
রুকুর দোয়া
((سُبْحانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ)). ثلاث مرَّاتٍ.
(আমার মহান রব কত পবিত্র।’(তিনবার))
((سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي)).
(হে আল্লাহ, আমাদের রব! আপনি কত পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।)
((سُبُّوُحٌ، قُدُّوسٌ، رَبُّ المَلاَئِكَةِ وَالرُّوحِ)).
(তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত, ফেরেশতাদের ও রূহের (অর্থাৎ জিবরীল) রব।)
((اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِي، وَبَصَرِي، وَمُخِّي، وَعَــــظْمِي، وَعَصَبِي، [وَمَا استَقَلَّتْ بِهِ قَدَمِي])).
(হে আল্লাহ! আপনার জন্যই আমি রুকূ করেছি, আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার কান, চোখ, মস্তিষ্ক, হাড়, শিরা-উপশিরা এবং আমার পা যা বহন করছে, সবই আপনার সামনে বিনীত।)
((سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ، وَالْمَلَكُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ)).
(তিনি কত পবিত্র, পূর্ণ ক্ষমতা, রাজত্ব, মহিমা ও গৌরবের অধিকারী।)
সিজদার দোয়া
((سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى)) ثلاث مرَّاتٍ.
(আমার সর্বোচ্চ রব কত পবিত্র।’(তিনবার))
((سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي)).
(হে আল্লাহ, আমাদের রব! আপনি কত পবিত্র এবং আমি আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।)
((سُبوحٌ، قُدُّوسٌ، رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ)).
(তিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত, ফেরেশতাদের ও রূহের (অর্থাৎ জিবরীল) রব।)
((اللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِي خَلَقَهُ، وَصَوَّرَهُ، وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، تَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسنُ الْخَالِقينَ)).
(হে আল্লাহ! আপনার জন্যই আমি সিজদা করেছি, আপনার প্রতি ঈমান এনেছি এবং আপনার কাছে আত্মসমর্পণ করেছি। আমার চেহারা সিজদা করেছে সেই সত্তার জন্য, যিনি তা সৃষ্টি করেছেন, তার আকৃতি দান করেছেন এবং তার শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি উন্মোচিত করেছেন। সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ বরকতময়।)
((سُبْحَانَ ذِي الْجَبَرُوتِ، وَالْمَلَكُوتِ، وَالْكِبْرِيَاءِ، وَالْعَظَمَةِ)).
(তিনি কত পবিত্র, পূর্ণ ক্ষমতা, রাজত্ব, মহিমা ও গৌরবের অধিকারী।)
((اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي كُلَّهُ: دِقَّهُ وَجِلَّهُ، وَأَوَّلَهُ وَآخِرَهُ، وَعَلاَنِيَّتَهُ وَسِرَّهُ)).
(হে আল্লাহ! আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করুন, ছোট ও বড়, প্রথম ও শেষ, প্রকাশ্য ও গোপন।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ، لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ)).
(হে আল্লাহ! আমি আপনার ক্রোধ থেকে আপনার সন্তুষ্টির আশ্রয় চাচ্ছি, আপনার শাস্তি থেকে আপনার ক্ষমার আশ্রয় চাচ্ছি, এবং আপনার (পাকড়াও) থেকে আপনারই কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারি না; আপনি তেমনই, যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।)
শেষ তাশাহহুদের পর ও নামাজ শেষ করার আগের দোয়া
((اللَّهُــمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ)).
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ আদ-দাজ্জালের অনিষ্টকর ফিতনা থেকে।)(আল-মাসীহ আদ-দাজ্জাল: কিয়ামতের বড় আলামতগুলোর অন্যতম এবং মানবজাতির উপর আসা সবচেয়ে বড় ফিতনা, যার ব্যাপারে প্রত্যেক নবী সতর্ক করেছেন। অধিকাংশ মানুষ তার অনুসরণ করবে। মুসলিমরা যখন কনস্টান্টিনোপল জয় করবে, তখন সে ইরানের ইসফাহান থেকে আবির্ভূত হবে। তাকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হবে এবং সে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য বলে দেখাবে। সে প্রথমে নিজেকে সৎ বলে দাবি করবে, তারপর নবুওয়াতের দাবি করবে এবং সবশেষে খোদা হওয়ার দাবি করবে। তার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলো, সে ডান চোখে কানা হবে, যা তার আল্লাহ হওয়ার দাবির বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ, কারণ তা ত্রুটির চিহ্ন। তার দুই চোখের মাঝখানে ‘কাফির’ শব্দ লেখা থাকবে, যা প্রত্যেক মুমিন, শিক্ষিত হোক বা নিরক্ষর, চিনতে পারবে।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي أَعوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ، وَأَعوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ)).
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি মাসীহ আদ-দাজ্জালের ফিতনা ও পরীক্ষা থেকে, এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি গুনাহ ও ঋণ থেকে।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْماً كَثِيراً، وَلاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِي مَغْفِرَةً مِنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِي، إِنَّكَ أَنْتَ الغَفورُ الرَّحيمُ)).
(হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অনেক জুলুম করেছি এবং আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই; অতএব আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।)(আপনার পক্ষ থেকে: অর্থাৎ আপনার একান্ত অনুগ্রহে, যার আমি যোগ্য নই, এমন ক্ষমা যা আপনার মহান দানশীলতার উপযুক্ত।)
((اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ، وَمَا أَخَّرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ، وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي. أَنْتَ الْمُقَدِّمُ، وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ)).
(হে আল্লাহ! আমার অতীতের গুনাহ এবং ভবিষ্যতের গুনাহ ক্ষমা করুন, যা আমি গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি, যেখানে আমি সীমা লঙ্ঘন করেছি এবং যা আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। আপনিই আল-মুকাদ্দিম (অগ্রবর্তীকারী) এবং আল-মুআখখির (পশ্চাদবর্তীকারী)। আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই।)(আল-মুকাদ্দিম ও আল-মুআখখিরের অর্থ: আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা এগিয়ে দেন ও মর্যাদা দেন, এবং নিজ হিকমত অনুযায়ী যাকে ইচ্ছা পিছিয়ে রাখেন। যেমন: মানুষকে অন্যান্য সৃষ্টির উপর মর্যাদা দেওয়া, নবীগণকে অন্যান্য মানুষের উপর মর্যাদা দেওয়া, মুহাম্মাদ ﷺ-কে সকল নবী ও রাসূলের উপর মর্যাদা দেওয়া ইত্যাদি।)
((اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبادَتِكَ)).
(হে আল্লাহ! আপনার যিকির করতে, আপনার শুকরিয়া আদায় করতে এবং উত্তমরূপে আপনার ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ، وَأَعوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ)).
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন আমাকে নিকৃষ্টতম জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া না হয় “অর্থাৎ বার্ধক্য, দুর্বলতা, অক্ষমতা ও ভয়ের অবস্থা”, এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকে।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ)).
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।)
((اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلقِ أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْراً لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْراً لِي، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْغِنَى وَالْفَقْرِ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيماً لاَ يَنْفَدُ، وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لاَ تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَاءِ، وَأَسْــــأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقائِكَ فِي غَيرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلاَ فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ)).
(হে আল্লাহ! আপনার অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান ও সৃষ্টির উপর আপনার ক্ষমতার ওসিলায় আমাকে ততক্ষণ জীবিত রাখুন, যতক্ষণ জীবন আমার জন্য কল্যাণকর বলে আপনি জানেন, এবং আমাকে মৃত্যু দিন যদি মৃত্যু আমার জন্য উত্তম বলে আপনি জানেন। হে আল্লাহ! গোপনে ও প্রকাশ্যে আমাকে আপনার ভয় দান করুন এবং সন্তুষ্টি ও ক্রোধের সময় আমাকে সত্য কথা বলার তাওফীক দিন। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, ধনাঢ্যতা ও দারিদ্র্যে আমাকে মধ্যপন্থী করুন এবং আমি আপনার কাছে চিরস্থায়ী নিয়ামত ও আনন্দ প্রার্থনা করছি যা কখনো শেষ হবে না। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার এবং মৃত্যুর পর সহজ জীবনের। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি আপনার চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ এবং আপনার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা, এমনভাবে যে কোনো ক্ষতিকর বিপদ বা পথভ্রষ্টকারী ফিতনা যেন না আসে। হে আল্লাহ! ঈমানের সৌন্দর্যে আমাদের সুশোভিত করুন এবং আমাদের পথপ্রদর্শনকারী ও সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করুন।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ يَا أَللَّهُ بِأَنَّكَ الْوَاحِدُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يولَدْ، وَلَمْ يَكنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ، أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِّيمُ)).
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, হে আল্লাহ! যেহেতু আপনি এক, অদ্বিতীয়, আস-সামাদ (অমুখাপেক্ষী), যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারও থেকে জন্মগ্রহণও করেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন, কারণ আপনিই অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।)(আস-সামাদ: স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রভু, পরিপূর্ণ গুণাবলির অধিকারী, সমগ্র সৃষ্টি তাদের সকল প্রয়োজনে যাঁর দিকে ফিরে যায়।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّ لَكَ الْحَمْدَ لَا إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ وَحْدَكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ، الْمَنَّانُ، يَا بَدِيعَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالْإِكْرَامِ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ)).
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, কারণ সমস্ত প্রশংসা আপনারই, আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। আপনি মহান দাতা। হে আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী ও সকল কিছুর ধারক, নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।)
((اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ)) .
(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, কারণ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই; আপনি এক, আস-সামাদ, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারও থেকে জন্মগ্রহণও করেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।)(আস-সামাদ: স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রভু, পরিপূর্ণ গুণাবলির অধিকারী, সমগ্র সৃষ্টি তাদের সকল প্রয়োজনে যাঁর দিকে ফিরে যায়।)